Market Status: Closed
  Thursday, 29 Jan '26
   22:01:20 (BST)

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, চট্টগ্রামঃ


পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা ও প্রায়োগিক পরিচালনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা গ্রহন করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর একটি দল গত ২৭  জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)-র, আগ্রাবাদ, চট্রগ্রামস্থ কার্যালয়ে তাদের শিক্ষা সফর সম্পন্ন করে । বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি )-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই প্রতিনিয়তই এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ ও স্বাগত জানিয়ে আসছে ।


উক্ত অনুষ্ঠানে সিএসই কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জনাব মোহাম্মদ মাহাদী হাসান, সিএফএ,  জিএম, কনভেনার, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রোজেক্ট, জনাব মোঃ মর্তুজা  আলম, ডিজিএম এন্ড হেড অফ ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট এন্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স, জনাব একেএম শাহরোজ আলম, এজিএম এন্ড হেড অফ ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টমেন্ট, জনাব মোহাম্মদ বারাকাত শফি, এসিসিএ । অধিবেশনটি পরিচালনা করেন হেড অফ ট্রেনিং অ্যান্ড এওয়্যারনেস, জনাব এম সাদেক আহমেদ । অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েট প্রফেসর এন্ড হেড অফ ডিপার্টমেন্ট, ড. ফাতেমা জোহরা, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ফাতেমা তুজ জোহরা , লেকচারার, জনাব মোঃ ইয়াকুব আলি, জনাব ইমরান হোসেন এবং জনাব তাহসিন মামুন প্রত্যয়  ।

 

 চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জনাব মোহাম্মদ মাহাদী হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, পুঁজিবাজারে কিংবা অন্য যে মাধ্যমেই বিনিয়োগ করতে চান না কেন সে সম্পর্কে সঠিক ও উপযুক্ত ধারণা থাকা খুব জরুরী । বিনিয়োগের ধরণ এবং ঝুঁকি এই দুই ভিত্তিকে বিবেচনা করে আপনার লক্ষ্য স্থির করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হবে। বিনিয়োগের ধরণ বলতে বোঝায় কি ধরনের ফিনান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্টে আপনি বিনিয়োগ করছেন  এবং একই সাথে কোন ধরনের বিনিয়োগ ঝুঁকি ( উচ্চ, মধ্যম নাকি ঝুঁকিবিহীন) নির্বাচন করছেন। এই বিষয়গুলো সম্বন্ধে এখন থেকেই জানতে হবে। আরও জানতে হবে আমাদের মার্কেটের ধরণ ও নতুন বিনিয়োগ মাধ্যম। যেহেতু বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ফিনান্সিয়াল প্রোডাক্ট অনেক কম, তাই  নতুন নতুন  প্রোডাক্ট এবং ধারণা নিয়ে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই শিক্ষাজীবন থেকেই আপনাদের মার্কেট সম্পর্কে ধারণা গ্রহন করতে হবে এবং বিনিয়োগ করার আগে আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে।

 

জিএম, কনভেনার, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রোজেক্ট, জনাব মোঃ মর্তুজা  আলম বলেন, পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী হবেন আজকের শিক্ষার্থীরা  ।  তাই শিক্ষাকালীন সময় থেকেই এই পুঁজিবাজার এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা, সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং সুযোগ থাকলে প্রায়োগিক জ্ঞান গ্রহণ করা প্রয়োজন । বিভিন্ন ধরনের এনালাইসিস যেমন - ফান্ডামেন্টাল, টেকনিক্যাল ইত্যাদি সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে হবে এবং এখন থেকেই এই বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে ছোট ছোট বিনিয়োগ করার  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে । আপনি যদি এনালাইসিস না করে একসাথে অনেক বিনিয়োগ করেন, তবে মনে রাখবেন সেক্ষেত্রে বিনিয়োগ হারানোর ঝুঁকিও অনেকখানি বেড়ে যাবে। বরং বিনিয়োগ  সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষণ ভিত্তিক করতে পারলে ঝুঁকির পরিমান হ্রাস করা যাবে এবং একই সাথে বিনিয়োগ নিরাপদ হবে। আপনার জ্ঞানকে কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক প্রয়োগে সমৃদ্ধ করতে হবে । সেজন্য এখন থেকেই সেমিনার, ট্রেনিং , ওয়ার্কশপে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে এবং ছোট ছোট বিনিয়োগ করার অভ্যাস করতে হবে।

 

ডিজিএম এন্ড হেড অফ ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট এন্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স, জনাব একেএম শাহরোজ আলম বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে পুঁজিবাজারের অবদান অনস্বীকার্য। পুঁজিবাজারে থাকা কোম্পানিগুলোর ফান্ডামেন্টাল সম্পর্কে জানতে হবে এবং যে কোম্পানিগুলোকে এখানে আনা যায় সে ব্যাপারেও পর্যালোচনা করতে হবে। শুধুমাত্র স্বল্প সময়ে বিনিয়োগ করে অধিক লভবান হবেন এই উদ্দেশ্যকে বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই পুঁজিবাজারে আসতে হবে। আপনাদের এবং আমাদের সবার সমন্বিত প্রয়াস এই মার্কেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের শিক্ষার্থীদের নিতে হবে সেই দায়িত্ব, হতে হবে আগামী দিনের সফল কর্ণধার।

 

এজিএম এন্ড হেড অফ ইন্টারনাল অডিট ডিপার্টমেন্ট, জনাব মোহাম্মদ বারাকাত শফি, এসিসিএ বলেন,  আমাদের পুঁজিবাজার ছোট হলেও বিভিন্ন স্তরে নজরদারি ব্যবস্থা চালু আছে যার মাধ্যমে চেষ্টা করা হচ্ছে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সুরক্ষা নিশ্চিত করার । তারপরও কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আপনি যখন বুঝে শুনে ও সচেতন হয়ে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিবেন তখন শুরুতেই ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তাই, আমাদের প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রইল যেন, এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করবেন।

 

এসোসিয়েট প্রফেসর ড. ফাতেমা জোহরা বলেন, বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থানের পেছনে সিএসই সব সময়ই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে, যার সাম্প্রতিক একটি উদাহরন হল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ । তিনি উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন যে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সামনে এই পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক আজকের এই শিক্ষা সফরই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ । বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনও বেশ ছোট তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী এবং তাদের উদ্যোগ ও অংশগ্রহণ এই মার্কেটকে আরও প্রানবন্ত করবে ।

 

 

 

 

 

 

 

 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমানে প্রচলিত এবং অদূর ভবিষ্যতে চালুকৃত কমোডিটি  ডেরিভেটিভস প্রোডাক্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন । এছাড়াও আর্থিক পরিকল্পনা, ঝুঁকি এবং পুঁজিবাজারের সাথে সম্পর্কিত রিটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সুরক্ষার জন্য তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন । উক্ত অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা প্রদান করতে ও প্রায়োগিক পরিচালনা বিষয়ে অবহিত করতে জনাব এম সাদেক আহমেদ তাঁর উপস্থাপনা প্রদান করেন । এরপর সিআরও এবং অন্যান্য উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানগণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
 

বিস্তারিত জানতে,
তানিয়া বেগম
সিএসই-পিএন্ডসিআর
ফোনঃ ০১৭৬০৭৪৫৭৩৬

| January 29, 2026 |