

২৪ আগস্ট, ২০২৫, চট্টগ্রামঃ
পুঁজিবাজার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা ও প্রায়োগিক পরিচালনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা গ্রহন করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রায় ৬৫ জন শিক্ষার্থীর একটি দল গত ২১ আগস্ট ২০২৫ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই)-এর, আগ্রাবাদ, চট্রগ্রামস্থ কার্যালয়ে তাদের শিক্ষা সফর সম্পন্ন করে । বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং বিনিয়োগ শিক্ষার অংশ হিসেবে সিএসই প্রতিনিয়তই এ ধরনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ ও স্বাগত জানিয়ে আসছে ।
উক্ত অনুষ্ঠানে সিএসই কর্তৃপক্ষের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জনাব মোহাম্মদ মাহাদী হাসান, সিএফএ, ডিজিএম এন্ড হেড অফ ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট এন্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স, জনাব একেএম শাহরোজ আলম, ডিজিএম এন্ড হেড অফ সারভিলেন্স এন্ড মপস, জনাব নাহিদুল ইসলাম খান । অধিবেশনটি পরিচালনা করেন হেড অফ ট্রেনিং অ্যান্ড এওয়্যারনেস, জনাব এম সাদেক আহমেদ। অনুষ্ঠানে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ)-এর ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী।
চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) জনাব মোহাম্মদ মাহাদী হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনো পরিপক্ক নয়। আশপাশের অনেক দেশের তুলনায় আমাদের মার্কেটের বৈচিত্র্যতা আনেক কম এবং অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে । সেক্ষেত্রে নতুনদের কাজ করার সুযোগও বেশি। পুঁজিবাজার , স্টক এক্সচেঞ্জ এবং লেনদেন , চাহিদা-যোগান বিষয়গুলোর প্রকৃত কার্যক্রম এবং পরিধি নিয়ে এখনো সবার ধারনা পরিষ্কার নয় । পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারী এবং কর্ণধার উভয়ই হবেন আজকের শিক্ষার্থীরা ।
তাই শিক্ষাকালীন সময় থেকেই এই পুঁজিবাজার এবং এর কার্যক্রম সম্পর্কে জানা, গবেষণা করা, সম্যক জ্ঞান লাভ করা এবং সুযোগ থাকলে প্রায়োগিক জ্ঞান গ্রহণ করা প্রয়োজন । একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অনেকখানি নির্ভর করে তার পলিসি বিষয়টির উপর, উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমাদের আশেপাশের অনেক দেশ এক্ষেত্রে উন্মুক্ত এবং যার ফলাফলও বেশ আশাব্যঞ্জক । তাই যা এখনও হয় নি তা কেন হয়নি তার সঠিক কারণ বের করে নতুন নতুন কাজগুলোর সমন্বয় করে এগিয়ে যেতে হবে। পুঁজিবাজার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক, সুতরাং এর যথাযথ উন্নয়ন অবদান রাখবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে।
ডিজিএম এন্ড হেড অফ ক্লিয়ারিং, সেটেলমেন্ট এন্ড লিস্টিং কমপ্লায়েন্স, জনাব একেএম শাহরোজ আলম, বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে পুঁজিবাজারের অবদান অনস্বীকার্য। এই সেক্টরটিতে ইনভেস্টমেন্টকে স্বল্প সময়ে বড় করার যে সুযোগ রয়েছে তা আর কোন ক্ষেত্রে অপ্রতুল। রেজিস্টার অফ জয়েন্ট স্টক এক্সচেঞ্জে প্রায় ৩০ হাজার কোম্পানি রেজিস্টার থাকা সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে লিস্টেড কোম্পানি মাত্র ৪০০। পুঁজিবাজারে থাকা কোম্পানিগুলোর ফান্ডামেন্টাল সম্পর্কে জানতে হবে এবং যে কোম্পানিগুলোকে এখানে আনা যায় সে ব্যাপারেও পর্যালোচনা করতে হবে। শুধুমাত্র স্বল্প সময়ে বিনিয়োগ করে অধিক লভবান হবেন এই উদ্দেশ্যকে বাদ দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এই পুঁজিবাজারে আসতে হবে। আপানাদেরকে এমনভাবে তৈরি হতে হবে যেন যা হওয়ার কথা ছিল বা যা হয়নি সেগুলো করার উদ্যম ও প্রচেষ্টা আপানদের লক্ষ্যে থাকে। আপনাদের এবং আমাদের সবার সমন্বিত প্রয়াস এই মার্কেটের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। আজকের শিক্ষার্থীদের নিতে হবে সেই দায়িত্ব, হতে হবে আগামী দিনের সফল কর্ণধার।
ডিজিএম এন্ড হেড অফ সারভিলেন্স এন্ড মপস, জনাব নাহিদুল ইসলাম খান বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের অগ্রগতি একই সময়ে শুরু হওয়া অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারের তুলনায় ধীর এবং একই সাথে অর্থনীতির অন্যান্য নিয়ামকগুলোও আশানুরূপ অবস্থানে নেই । তারপরও আমরা আশাবাদী , এখন পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে তাও কম নয়। অনেক নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার সুযোগ যেমন আছে তেমনি নতুন নতুন বৈচিত্র্যময় চিন্তা ও বিকল্প বিনিয়োগ করার মানসিকতাসম্পন্ন বিনিয়োগকারীও দরকার । আমরা আশা করবো আপানারা নিজেদেরকে প্রস্তুত করবেন এবং আগামীতে আমাদের পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করবেন।
প্রফেসর এ কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ফিনান্সিয়াল মার্কেটে, ক্যাপিটাল মার্কেট হচ্ছে অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি ।আমাদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এখনও বেশ ছোট তবে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী এবং তাদের উদ্যোগ ও অংশগ্রহণ এই মার্কেটকে আরও প্রানবন্ত করবে । বাংলাদেশের বর্তমান পুঁজিবাজারের অবস্থানের পেছনে সিএসই সব সময়ই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে আসছে, যার সাম্প্রতিক একটি উদাহরন হল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ । তিনি উপস্থিতিদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন যে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সামনে এই পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক আজকের এই শিক্ষা সফরই হতে পারে তাদের প্রথম পদক্ষেপ ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বর্তমানে প্রচলিত এবং অদূর ভবিষ্যতে নতুন চালুকৃত প্রোডাক্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন । এছাড়াও আর্থিক পরিকল্পনা, ঝুঁকি এবং পুঁজিবাজারের সাথে সম্পর্কিত রিটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে সুরক্ষার জন্য তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন । উক্ত অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণা প্রদান করতে ও প্রায়োগিক পরিচালনা বিষয়ে অবহিত করতে জনাব এম সাদেক আহমেদ তাঁর উপস্থাপনা প্রদান করেন । এরপর সিআরও এবং অন্যান্য উপস্থিত বিভাগীয় প্রধানগণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন ।এবং অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা সম্যক ধারণার জন্য এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন বিভাগ গুলো পরিদর্শন করেন।
বিস্তারিত জানতে,
তানিয়া বেগম
সিএসই-পি এন্ড সিআর
ফোনঃ ০১৭৬০৭৪৫৭৩৬
©2024 Chittagong Stock Exchange PLC. All rights reserved.